মোবাইল চালক

১.

মোবাইলের টাচ স্ক্রীন কিবোর্ডে অবিরাম দুই আংগুলের ছোঁয়া,এক টার পর একটা মেসেজ আদান প্রদান, নোটিফিকেশন চেক,,নতুন পোষ্টে লাইক কমেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমাদের নিত্য দিনকার কাজ।

চলছে তো চলছেই,যেন থামার কোন লক্ষন ই নেই।

একসময় মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায়, কপালের একপাশে টিন টিন ব্যাথা অনুভব হয়।

তবুও থামতে মন চায় না,আরো গুতাইতে মন চায়।

মোবাইলের আবিষ্কারক ও হয়তো কোনদিন কল্পনাও করেনি যে এই ছোট যন্ত্রটার প্রতি মানুষ এমন ভাবে আসক্ত হয়ে পড়বে।

২.

মোবাইল চালক,
অন্যরকম একটা পেশা।এ পেশায় কোন অফিস থেকে নিয়োগ পেতে হয় না,এখানে কোন বস নেই।প্রমোশন,ডিমোশন কোন কিছুর ঝামেলা নেই।নেই কোন বেতন😜

মোবাইল চালক হওয়াটা অনেক সহজ।দরকার শুধু একটা স্মার্টফোন আর ইন্টার নেট কানেকশন।

ব্যাস এরপর থেকে চাকরি শুরু।

সারাক্ষন চালাইতে চালাইতে একসময় একজন ব্যক্তি পাকা মোবাইল চালকে পরিনত হয়।

এর পর ফোনের কিবোর্ড হয় নিত্যকার সংগী।

৩.

মোবাইল চালক এক সময় আসক্তিতে পড়ে যায়।যে আসক্তি থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ক্লাস ওফ ক্লান,ক্যান্ডি ক্রাশ আর রেসিং গেমগুলো আমাদের মিলিয়ন বিলিয়ন মুহূর্ত নষ্ট করে দিচ্ছে।

আসক্ত হয়ে পড়ছি আমরা,যেটা নেশার থেকে কোন অংশে কম না।

ভাবছেন আমি উপদেশ দিচ্ছি।সে রকম কিছু না।আমি নিজেও আসক্ত।নিজের মনের কথা গুলো গুছিয়ে লিখলাম।

পরিশেষে বলি,আমরা মোবাইল চালাবো,তবে চালকের মতো নয়,প্রয়োজনের ক্ষেত্রগুলোতে।

চালক হতে গিয়ে যেন আমাদের সুন্দর মূহুর্ত গুলো যেন নষ্ট না করে ফেলি


সারোয়ার সানি